হরিশ্চন্দ্রপুর: আর্থিক অনটনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল হরিশ্চন্দ্রপুর থানার গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা রেনু দাসের(নাম পরিবর্তিত) বিয়ে। পরিবারের পক্ষে বিয়ের খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল শুভদিন। শেষ পর্যন্ত মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয় রহমতপুর গ্রামের আঁচল আশ্রম। আশ্রমের চেয়ারম্যান আলমগীর খান, সম্পাদক শফিকুল আলম এবং সদস্যদের উদ্যোগে সম্পূর্ণ সামাজিক সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় রেনুর বিয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রেনু দাসের সঙ্গে চাঁচল থানার একটি গ্রামের সুবীর চন্দ্র দাসের(নাম পরিবর্তিত) বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের কারণে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছিল না। অসহায় অবস্থায় কনের পরিবার রহমতপুরের আঁচল আশ্রমের দ্বারস্থ হয়।
বিষয়টি জানার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষ বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়ে সহযোগিতার আহ্বান করা হলে বহু মানুষ এগিয়ে আসেন। সেই আর্থিক ও সামগ্রীগত সহায়তায় বিয়ের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়।
রবিবার সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কনের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির সামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ১৫০ জন অতিথির জন্য ভোজেরও আয়োজন করা হয়। সুসজ্জিত বিয়ের মণ্ডপ, প্যান্ডেল এবং অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও করে আঁচল আশ্রমের সদস্যরা।
আঁচল আশ্রমের সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, “সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। রেনু দাসের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানুষের সহযোগিতা না পেলে এই উদ্যোগ সফল করা সম্ভব হতো না।”
আশ্রমের চেয়ারম্যান আলমগীর খান বলেন, “মানবিক কাজের কোনও ধর্ম বা জাত নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মেয়ের বিয়ে আর অর্থের অভাবে আটকে থাকবে না।”
আঁচল আশ্রম তরফে সানু ইসলাম বলেন, “আমাদের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১৯ জন অসহায় কন্যার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।







