চাঁচল, ১৬ অগস্ট: চাঁচলের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর মানুষের আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে রাজ আমলের সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশন। ১৩৯ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষার আলো দেখিয়ে আসা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রবিবার পা রাখল আরও একটি গৌরবময় অধ্যায়ে। স্কুলের ১৩৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে যেমন ছিল আবেগ, তেমনই ছিল এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত।
এই দিনেই উদ্বোধন হল স্কুলের নবনির্মিত মূল প্রবেশদ্বারের। কিন্তু উদ্বোধনের মুহূর্তেই নজর কাড়ল এক অভিনব উদ্যোগ। ফিতে কেটে নতুন প্রবেশদ্বারের উদ্বোধন করলেন না কোনও প্রশাসনিক কর্তা বা স্কুলের পদাধিকারী। বরং যে শ্রমিক নিজের হাতের পরিশ্রমে গড়ে তুলেছেন সেই প্রবেশদ্বার, সেই রাজমিস্ত্রি সাইন আলির হাতেই তুলে দেওয়া হল উদ্বোধনের সম্মান। প্রকল্পের ফলকেও তাঁর নাম রাখা হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে যেন উঠে এল পরিশ্রমের মর্যাদার এক অন্য বার্তা। যে হাত ইট, বালি, সিমেন্টের সংমিশ্রনে ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই এই প্রবেশদ্বার গড়ে তুলেছে, সেই হাতকেই সম্মান জানানো হল প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে।
এদিন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাজমাতা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র তথা বিশিষ্ট রসসাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীর আবক্ষ মূর্তিতেও। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রশাসক তথা চাঁচল চক্রের প্রশাসক পলাশ রায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীরা।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচলের প্রাক্তন বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষের তহবিল থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে প্রবেশদ্বারটি। ১৬ ফুট উচ্চতা ও ১৩ ফুট প্রস্থের এই দ্বারটি স্কুলের রাজ আমলের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাল রঙে সাজানো হয়েছে। এটিই স্কুলের মূল প্রবেশপথ।
ফলকে প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নামের পাশাপাশি নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রি সাইন আলির নামও রাখা হয়েছে উদ্বোধকের তালিকায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তীর কথায়, “যাঁরা পরিশ্রম করে কোনও কিছু তৈরি করেন, তাঁদের নাম অনেক সময় কোথাও থাকে না। সেই পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রির নাম ফলকে রাখার সিদ্ধান্ত।”
১৩৯ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠান চাঁচলের মানুষের কাছে শুধু একটি স্কুল নয়, বরং বহু প্রজন্মের স্মৃতি, আবেগ ও গর্বের ঠিকানা। সেই ঐতিহ্যের প্রবেশদ্বারে এবার যুক্ত হল শ্রমের সম্মান ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধার এক নতুন গল্প।







