চাঁচল: ঢাকের বাদ্যি, আলোর রোশনাই আর উৎসবের আনন্দের মাঝেই সমাজকে সচেতন করার অভিনব উদ্যোগ। দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এবার বাল্যবিবাহের কুফল, তা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা এবং আইন ভাঙলে কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে, সেই বার্তাই তুলে ধরল মালদহের চাঁচলের দক্ষিণপাড়া দুর্গোৎসব কমিটি। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি মণ্ডপে ঢুকেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে সার্কিট হাউসে ঢোকার রাস্তার উল্টোদিকে এই পুজো মণ্ডপ। বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ফিতে কেটে ও প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজোর উদ্বোধন করেন চাঁচল থানার আইসি জয়দেব ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন চাঁচল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ-সহ শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবার দক্ষিণপাড়া দুর্গোৎসব কমিটির পুজো ১৯ বছরে পা দিল। প্রতি বছরই নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হন উদ্যোক্তারা। তবে এবার নিছক সাজসজ্জা নয়, সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে সামনে আনাই তাঁদের লক্ষ্য। বাল্যবিবাহ কীভাবে নাবালক-নাবালিকাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে, কেন এই প্রথা বন্ধ করা জরুরি এবং আইন অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে।
বাল্যবিবাহ রুখতে প্রশাসনের লাগাতার প্রচেষ্টার মধ্যেই উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মণ্ডপে জানানো হয়েছে, কোথাও বাল্যবিবাহের ঘটনা চোখে পড়লে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে জানানো যায়। উৎসবের আবহে এই বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
দক্ষিণপাড়া দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অমিতেষ পাণ্ডে বলেন, পুজোয় মাতৃদর্শনের পাশাপাশি আমরা বাল্যবিবাহ নিয়ে মানুষকে সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছি।







