মালদা: মালদার বূতনি ও রতুযার একাংশ প্লাবিত। বন্যা মোকাবিলায় ২০২৬ সালে মালদা জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়ল। ১৩ দিনের ক্রমসঞ্চিত পরিসংখ্যান বলছে, ত্রাণ ও উদ্ধার ব্যবস্থার একাধিক ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ত্রাণ শিবির, সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ, মেডিকেল টিম থেকে শুরু করে খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় জল সরবরাহ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেড়েছে প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও পরিষেবার পরিমাণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রাণ শিবিরের সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২টি। অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ৪৭ শতাংশ। একইসঙ্গে শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪,১৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,০৩৬-এ—বৃদ্ধি প্রায় ৬৯ শতাংশ। বন্যাকবলিত মানুষের চিকিৎসার জন্য মোতায়েন মেডিকেল দলের সংখ্যাতেও প্রায় ১৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এবারই প্রথম নৌকায় করে দুর্গত এলাকায় মোবাইল স্বাস্থ্য শিবির চালু করা হয়েছে।
ত্রাণসামগ্রী সরবরাহেও বড়সড় বৃদ্ধি নজরে এসেছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৫৫৯ শতাংশ। জেনারেটর সেট মোতায়েন হয়েছে আগের তুলনায় ১২ গুণেরও বেশি। জল ট্যাঙ্কারের ট্রিপ বেড়েছে প্রায় ৪৫৪ শতাংশ।
এছাড়াও ডিএম কিটে ৩৭৫ শতাংশ, বিস্কুটে ৩৫২ শতাংশ, সয়াবিনে ৩৪১ শতাংশ এবং পশুখাদ্য সরবরাহে ৪৪২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসাপ্রাপ্ত পশুর সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ২৭৩ শতাংশ। পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো ২০ লিটারের জলের জার বিতরণ করা হয়েছে ৩,৫৬০টি।
প্রশাসনের দাবি, বন্যা পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবারের ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানও ইঙ্গিত করছে, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে মালদায় বন্যা মোকাবিলায় ত্রাণ ও পরিষেবা ব্যবস্থার পরিধি অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।







