চাঁচল: একেবারে সীমান্ত পেরিয়ে কি হাওয়ার টানে উড়ে এল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের বেলুন-ফেস্টুন? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও ঘটনা? মালদহের চাঁচলের অলিহন্ডায় বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপির প্রতিষ্ঠা দিবসের বেলুন ও ফেস্টুন উদ্ধারের পর এমনই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
শনিবার সকালে অলিহন্ডা এলাকায় একটি পাটকাঠির স্তূপের উপর রংবেরঙের বেলুনের সঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি ফেস্টুন। স্থানীয়দের নজরে আসতেই শুরু হয় কৌতূহল। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
ফেস্টুনটি খুঁটিয়ে দেখতেই সামনে আসে আরও চমকপ্রদ তথ্য। সেখানে বাংলাদেশের প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক আনোয়ারের ছবি রয়েছে। ফেস্টুনে লেখা রয়েছে— ‘পত্নীতলা উপজেলা ও নজিপুর পৌর বিএনপি, জেলা নওগাঁ’। অর্থাৎ বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার নজিপুর এলাকায় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছিল বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নওগাঁর নজিপুর থেকে চাঁচলের অলিহন্ডায় ওই ফেস্টুন এল কী ভাবে? দুই জায়গার দূরত্ব প্রায় ১৫২ কিলোমিটার। তাহলে কি প্রবল হাওয়ার দাপটে বেলুনের সঙ্গে ফেস্টুনটিও ভেসে সীমান্ত পেরিয়ে মালদহে এসে পড়েছে? নাকি বেলুনে গ্যাস ভরে ইচ্ছাকৃত ভাবেই আকাশে ওড়ানো হয়েছিল? আপাতত উত্তর নেই কোনও প্রশ্নেরই।
প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা বেলুন-ফেস্টুন কোনও ভাবে ছিঁড়ে গিয়ে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চাঁচলে এসে পড়ে থাকতে পারে। আবার বেলুনে গ্যাস ভরে আকাশে ওড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে শুধুই হাওয়ার টানে এতটা পথ পেরিয়ে একটি রাজনৈতিক ফেস্টুন মালদহে এসে পড়ল—নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও ঘটনা, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জল্পনা। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তুঙ্গে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বেলুন-ফেস্টুন কী ভাবে মালদহের মাটিতে এসে পৌঁছল, তার উত্তর খুঁজতেই এখন নজর প্রশাসনের দিকেও।








