
মালদহ, ৩১ আগস্ট: স্কুলের দেওয়াল, বারান্দা, সিঁড়ি কিংবা সীমানা প্রাচীর—এবার সেগুলিই হয়ে উঠছে শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম। মালদহ জেলা প্রশাসনের ‘ওয়ালস অ্যাজ ক্যানভাস’ উদ্যোগে ‘বিল্ডিং অ্যাজ লার্নিং এইড’ (বালা) ধারণাকে কাজে লাগিয়ে জেলার প্রায় ৩,০০০ সরকারি স্কুলকে এমনভাবেই বদলে ফেলা হয়েছে। উদ্যোগটির বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।মালদহ জেলার প্রায় ৩ হাজার সরকারি স্কুলের শিশুদের সহজ ও আনন্দময় উপায়ে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করতে স্কুলের বিভিন্ন দেওয়ালে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে বর্ণমালা, সংখ্যা, মানচিত্র, সৌরজগৎ, নীতিকথা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচির মূল ভাবনা হল, স্কুলের পরিকাঠামোকেই শিক্ষার সক্রিয় উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা। অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষের বাইরে স্কুলের দেওয়াল, মেঝে, সিঁড়ি, স্তম্ভ ও সীমানা প্রাচীরও যেন পড়াশোনার অংশ হয়ে ওঠে। ফলে স্কুলের ভিতর দিয়ে চলাফেরার সময়ও শিশুরা নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারবে।
এই পদ্ধতিতে ছোটদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত আরও মজবুত করার পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহ, অংশগ্রহণ ও বিষয় মনে রাখার ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্যও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা শাসক রাজনবীর সিংহ কপুর বলেন, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র স্কুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর কর্মসূচি নয়, বরং শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পদ্ধতিতেই পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা। তাঁর কথায়, কোনও শিশু যদি স্কুলের করিডর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই বর্ণমালা বা গুণের নামতা শিখে নিতে পারে, তাহলে স্কুলের প্রতিটি দেওয়ালই এক একজন নীরব শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবে। জেলার প্রায় ৩ হাজার স্কুল এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর মতে, স্কুলের পরিকাঠামোকে সৃজনশীলভাবে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করার এই উদ্যোগ সরকারি স্কুলগুলিকে আরও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করে তুলবে। একইসঙ্গে ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িও কর্মসূচির ব্যাপকতার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার পড়ুয়াদের আনন্দের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্ত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজ্যের মন্ত্রী জয়েল মুর্মুও জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কম খরচে শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এমন উদ্যোগ অন্য জেলাগুলির কাছেও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।







