পুরাতন মালদা: পঞ্চায়েত গঠনের আগেই তৃণমূলের হাতছাড়া হল পুরাতন মালদার যাত্রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত। বুধবার অনাস্থা ও বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যদের তিনজন অনুপস্থিত থাকায় বিজেপির ছয় সদস্যকে নিয়ে নতুন বোর্ড গঠিত হয়। প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির উমা ভারতী টুডু।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যাত্রাডাঙ্গা পঞ্চায়েত দখল করেছিল তৃণমূল। প্রধান ছিলেন সজনী পাহাড়িয়া, উপপ্রধান ছিলেন জিসান আলি। পরবর্তীতে তৃণমূলেরই একাংশ প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। সেই প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য মানজারুল হক।
বুধবার অনাস্থা ও পঞ্চায়েত গঠনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তিন তৃণমূল সদস্য উপস্থিত থাকলেও অনাস্থা প্রস্তাব আনা পক্ষের তিন সদস্য অনুপস্থিত থাকেন। ফলে বিজেপির ছয় সদস্যকে নিয়েই নতুন বোর্ড গঠনের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। চলে আবির খেলা ও আতশবাজি। উমা ভারতী টুডু জানান, এলাকার উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন।
অন্যদিকে, অনাস্থা প্রস্তাব আনা মানজারুল হকের দাবি, গঠন প্রক্রিয়ার আগে তাঁর সঙ্গে থাকা তিন সদস্যের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁরাও গঠন প্রক্রিয়ায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিজেপির সঙ্গে কয়েকজন তৃণমূল সদস্য যোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাল্টা বক্তব্যে প্রাক্তন উপপ্রধান জিসান আলি অনাস্থা আনা সদস্যদের উদ্দেশে কটাক্ষ করেন। ফলে যাত্রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের দখল ঘিরে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল।







