চাঁচল: পুজোর এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি। তার আগেই খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে শারদোৎসবের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ল মালদার চাঁচলের মৈত্রী সংসদ। এবারের দুর্গাপুজোয় দেবী আরাধনার পাশাপাশি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরতে চলেছেন উদ্যোক্তারা। মৈত্রী সংসদের এবারের ভাবনা ‘কর্মসংস্থান’।
শ্রাবণের শেষ সোমবার মন্ত্রোচ্চারণ ও ঢাকের বোলের মধ্যে দিয়ে খুঁটি পুজো হয় ক্লাব প্রাঙ্গণে। এই অনুষ্ঠানের পরই শুরু হয়েছে মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি এবং পুজোর অন্যান্য আয়োজনের প্রস্তুতি।
উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবারের মণ্ডপে বাংলার কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা এবং ধুঁকতে থাকা ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের ছবিও ফুটিয়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য।
মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে থাকছেন মালদহের শিল্পীরা। অন্যদিকে চাঁচলের পরিচিত মৃৎশিল্পী লালু পালের হাতেই তৈরি হবে এবারের প্রতিমা।
প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি পুজো অনুদানের প্রত্যাশা রয়েছে ক্লাব কর্তাদের। তবে তাঁদের দাবি, অনুদানের অর্থ শুধুমাত্র পুজোর জাঁকজমকে ব্যয় না করে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কাজেও ব্যবহার করা হয়।
মৈত্রী সংসদের সক্রিয় সদস্য সন্দীপ রক্ষিত বলেন, “এবার কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে আমাদের পুজোর মূল ভাবনা তৈরি করা হয়েছে। বাংলার কুটিরশিল্প এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানার বিষয়গুলি মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।”
খুঁটি পুজো হয়ে যাওয়ায় এখন পুরোদমে শুরু হচ্ছে মৈত্রী সংসদের পুজোর প্রস্তুতি। আগামী দু’মাস ধরে শিল্পীদের ব্যস্ততায় ধীরে ধীরে রূপ পেতে চলেছে কর্মসংস্থান-ভাবনার এই মণ্ডপ।







