চাঁচল: দুর্গাপুজো শুরু হতে এখনও বাকি ১২ দিন। অথচ তার অনেক আগেই ঢাকে কাঠি পড়ে গেল চাঁচল রাজবাড়ির পুজোয়। কৃষ্ণনবমীর তিথিতেই প্রথা মেনে শুরু হল ৩৭৫ বছরেরও বেশি পুরনো সেই আরাধনা। চাঁচল শহর থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপে ফের জ্বলে উঠল ঐতিহ্যের প্রদীপ।
কৃষ্ণনবমীর সকালে মরা মহানন্দার সতীঘাট থেকে তামার কলসে জল এনে ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুজো। পুরোহিত সৌমিত্র চক্রবর্তী, অচিন্ত মিশ্র, টিটু বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সম্পন্ন হয় প্রাথমিক আচার। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় চণ্ডীমণ্ডপে আনা হবে দেবীর মূর্তি। তার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম মেনে ঘটেই চলবে দেবীর আরাধনা। সন্ধ্যায় হবে চণ্ডীপাঠও।
পাহাড়পুরের এই দেবী চতুর্ভুজা, সিংহবাহিনী। কিন্তু স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি শুধু মৃন্ময়ী প্রতিমা নন—তিনি যেন কয়েক প্রজন্মের আবেগ, বিশ্বাস আর শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক আপনজন। পুজোর ক’দিন তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন চণ্ডীমণ্ডপে। একবার দেবীর সামনে মাথা নত না করলে যেন পুজোই সম্পূর্ণ হয় না।
কথিত আছে, চাঁচলের রাজা রামচন্দ্র রায় চৌধুরীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। সময়ের স্রোতে পেরিয়ে গিয়েছে শতাব্দী। বদলেছে সমাজ, বদলেছে রাজনীতি, হারিয়ে গিয়েছে রাজা-রাজপাট। এমনকী বিক্রি হয়ে গিয়েছে চাঁচল রাজবাড়িও। কিন্তু হারিয়ে যায়নি রাজপরিবারের সেই পুজো।
আজ রাজকীয় জৌলুস নেই। ট্রাস্টি বোর্ডের বরাদ্দও মাত্র ৯ হাজার টাকা। তাই পুজোর দায়িত্ব অনেকটাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন পাহাড়পুর, গিলাবাড়ি-সহ আশপাশের সাধারণ মানুষ। তাঁদের সহযোগিতা, চাঁদা আর ভালোবাসাতেই এখনও ধুমধাম করে হয় পুজো।
রাজা নেই, নেই সেই রাজকীয় আয়োজন। তবু দেবীর সামনে আজও ভিড় করেন মানুষ। কারণ এই পুজো শুধু রাজবাড়ির নয়—এখন তা হয়ে উঠেছে কয়েকশো বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের নিজের পুজো। চাঁচল রাজ অফিসিয়াল ট্রাস্টের সম্পাদক তথা চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, রাজপাট মুছে গেছে। কিন্তু পাহাড়পুরের চণ্ডীমণ্ডপের পুজো আজও মানুষের হৃদয়ে আবেগে অমলিন হয়ে আছে।






