মালদা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বৃহস্পতিবার মালদা জেলা কালেক্টরেটের গৌর সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হল জেলা স্তরের সচেতনতামূলক কর্মশালা। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা ও মানুষের পুষ্টির সম্পর্ক নিয়ে দিনভর আলোচনা হয় কর্মশালায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিরুদ্ধ নন্দী। স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ, নেশামুক্ত সমাজ গঠন এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।
মালদার আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন জেলা গ্রামোন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প অধিকর্তা অমলেন্দু সমাদ্দার।
বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রবীণ পরিবেশ প্রকৌশলী দীপাঞ্জনা মৌলিক। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের উপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থার সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার যোগসূত্র নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য ও পুষ্টি পর্ষদের প্রাক্তন প্রদর্শনী আধিকারিক মিতালি পালোধী জলবায়ু পরিবর্তনের পরিস্থিতিতে কীভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে পরামর্শ দেন। মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতি এবং পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এছাড়াও সমবায় সমিতির সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন মালদার সমবায় সমিতির উপ-নিবন্ধক। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মালদার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, জেলা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য আধিকারিক, জেলা প্রকল্প আধিকারিক, খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক, কৃষি ও উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিকরা। পাশাপাশি রেলের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক এবং মালদা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাদ্য উৎপাদন ও মানুষের পুষ্টির চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। তাই পরিবেশবান্ধব কৃষি, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার উপরই দিতে হবে বাড়তি গুরুত্ব।







