মালদা: আশঙ্কাই সত্যি হল। গঙ্গার জলোচ্ছ্বাসে অবশেষে ভেঙে গেল মালদহের ভূতনির কেশরপুর কালোটোন টোলার বাঁধ। বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ ভেঙে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে সংরক্ষিত এলাকার দিকে। আচমকা বাঁধ ভেঙে গঙ্গার জল ঢুকে পড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি এবং প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধের ওই অংশে চাপ বাড়ছিল। প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা ছিল, যেকোনও মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যাওয়ার পর গঙ্গার জল দ্রুতগতিতে ভিতরের দিকে ঢুকতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে বিধায়কের নির্দেশে ইতিমধ্যেই একটি অস্থায়ী বাঁধ তৈরির কাজ করা হয়েছে। তবে সেই অস্থায়ী বাঁধ কতটা জলরোধ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, গঙ্গার স্রোত এবং জলের চাপ যে মাত্রায় রয়েছে, তাতে অস্থায়ী বাঁধটি বেশিক্ষণ টিকে থাকা কঠিন। সেটি ভেঙে গেলে সংরক্ষিত এলাকায় বিপুল পরিমাণ গঙ্গার জল ঢুকে পড়তে পারে।
আর সেই আশঙ্কাতেই কার্যত আতঙ্কের প্রহর গুনছেন ভূতনির বাসিন্দারা। বাঁধ ভেঙে জল আরও ভিতরের দিকে ঢুকে পড়লে একাধিক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘরবাড়ি, চাষের জমি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। বিশেষ করে রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কীভাবে নিরাপদে সরে যাবেন, তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন অনেক পরিবার।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বাঁধের দুর্বল অংশ দ্রুত এবং স্থায়ীভাবে মেরামত করা না হলে পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। অস্থায়ী বাঁধের পরিবর্তে দ্রুত শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি উঠছে এলাকায়।
ইতিমধ্যেই ভাঙনস্থলে নজরদারি এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে গঙ্গার জলস্তর ও স্রোতের গতিবিধির উপরই এখন অনেকটাই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে। অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে জল আরও ভিতরে ঢুকবে, নাকি শেষ পর্যন্ত সেই বাঁধই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে—সেই আশঙ্কা ও উৎকণ্ঠার মধ্যেই সময় কাটছে ভূতনির বাসিন্দাদের।







