চাঁচল: দুপুরে আচমকা আগুন। চোখের সামনে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করল পাটকাঠির বেড়ার ঘর। আগুনের লেলিহান শিখার মধ্যে আটকে পড়ে মৃত্যু হল ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধার। পুড়ে ছাই হয়ে গেল তাঁর ঘর, মজুত ফসল, এমনকি বাড়ির দু’টি গবাদি পশুও। রবিবার দুপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচলের নদিসিক এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম বুধো বেওয়া। স্থানীয় সূত্রে খবর, ছোট ছেলে লালু মহম্মদের বাড়ির পাশের একটি পাটকাঠির বেড়ার ঘরে থাকতেন তিনি। নিজের রান্না নিজেই করতেন। এদিনও দুপুরে রান্নার প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় আচমকাই ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অংশেও।
সেই সময়ে বাড়িতে ছিলেন না লালু। তাঁর স্ত্রী মুক্তি খাতুন নিজের ঘরে শুয়েছিলেন। আগুন দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতায় বৃদ্ধাকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে চাঁচল থেকে দমকল পৌঁছনোর আগেই তিনটি পাটকাঠির বেড়ার ঘর-সহ মজুত ফসল পুড়ে যায়। পুড়ে মৃত্যু হয় দু’টি গবাদি পশুরও। বৃদ্ধার দেহও কার্যত ছাই হয়ে যায় বলে পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।
মৃতার ছেলে লালু মহম্মদের দাবি, আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য তাঁর মা কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা ও কিছু অলঙ্কার ঘরেই রাখা ছিল বলে পরিবারের দাবি। আগুনে সেগুলিরও কোনও হদিশ নেই।
মুক্তি খাতুন বলেন, সকাল থেকেই পেটে ব্যথা হওয়ায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকি।
আগুনের উৎস নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। আবার রান্নার জায়গা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে অন্যদের দাবি। চাঁচল মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।







