

উপরে: ভূতনিতে ত্রাণ দিচ্ছেন জেলাশাসক। নীচে: ত্রাণ নিয়ে পুলিশ আধিকারিকরা
মালদা: চারদিকে জল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম। ঘরছাড়া মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দিতে ভূতনিতে তৎপর জেলা প্রশাসন। উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে খোলা হয়েছে জোনাল রিলিফ অফিস, যাতে ভূতনির প্রত্যন্ত উত্তরাংশের মানুষকে ত্রাণের জন্য দূরে ছুটতে না হয়।
মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর ২৬.০৫ মিটার, যা বিপদসীমার ২৫.৩০ মিটারের অনেকটা উপরে। ভূতনির ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। এলাকায় চলছে ১১টি ত্রাণ শিবির ও ১৫টি গ্রুয়েল কিচেন। জলবন্দি মানুষকে নিরাপদে সরাতে ১১১টি নৌকা কাজ করছে, আরও ৩০টি নামানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪,৫৯৫ জনকে উদ্ধার বা নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।
ত্রাণের পাশাপাশি খাবার, ত্রিপল, ওষুধ, মশারি, পানীয় জল ও পশুখাদ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভূতনিতে ইতিমধ্যে ৩৩,৯৬৫টি ত্রিপল, ৪,১৭০টি ডি এম রিলিফ কিট এবং ৩৭৬ কুইন্টাল চাল বিতরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও বিশেষ নজর রয়েছে। ১৫টি মেডিক্যাল টিম ও নৌকাভিত্তিক মোবাইল মেডিক্যাল ক্যাম্পে এখনও পর্যন্ত ৭,৪৮২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গর্ভবতী ২৪৬ জন মহিলাকে নিরাপদে সরানো হয়েছে।
শুধু মানুষ নয়, বন্যার জলে বিপন্ন গবাদি পশুর জন্যও চলছে ৬৫টি পশু-স্বাস্থ্য শিবির। জেলা প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রেখে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।







