হরিশ্চন্দ্রপুর, ২ সেপ্টেম্বর: আমন ধান রোপণের মরশুমে সারের কালোবাজারি রুখতে এবার কড়া নজরদারি প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের সদর, তুলসীহাটা-সহ একাধিক এলাকায় সারের দোকানে আচমকা অভিযান চালাল ব্লক প্রশাসন ও কৃষি দফতর। অভিযানে সারের নির্ধারিত দাম, মজুত ও বিক্রির নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কালোবাজারির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়েছে।
বুধবারের অভিযানে আধিকারিকরা বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে খতিয়ে দেখেন, ইউরিয়া-সহ বিভিন্ন সার নির্ধারিত এমআরপিতে বিক্রি হচ্ছে কি না। কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন কি না, কোনও দোকানে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সার মজুত রাখা হয়েছে কি না—সেসব বিষয়েও নজরদারি চালানো হয়।
তুলসীহাটায় সারের কালোবাজারির অভিযোগ সামনে আসায় এক ব্যবসায়ীকে শোকজ করেছে প্রশাসন। তাঁকে পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে সারভেদে নির্ধারিত দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দাম সংক্রান্ত চার্ট টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমন চাষের মরশুমে কৃষকদের যাতে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে না হয় এবং কৃত্রিম সংকটের কারণে সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান। সারের কালোবাজারি বা বেআইনি মজুতের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
ব্লক সহ-কৃষি অধিকর্তা অমিত রায় বলেন, “এমআরপির মধ্যে ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে কিনা এবং কৃষকরা সেই সার পাচ্ছেন কিনা, তা দেখতেই এই অভিযান। একজন ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়েছে। পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য কৃষকরা যাতে ন্যায্য দামে সার পান। কেউ কালোবাজারি করলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।”
এদিনের অভিযানে ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবাশিস সামন্ত, ব্লক সহ-কৃষি অধিকর্তা অমিত রায়-সহ প্রশাসন ও কৃষি দফতরের আধিকারিকরা।









