মালদা: চারপাশে শুধু জল। জলের তলায় চলে গিয়েছে স্কুল। জলবন্দি বাড়িতে বসেই কষ্ট করে উচ্চমাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে ভুতনির ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু পরীক্ষা এগিয়ে আসতেই দেখা দেয় নতুন সমস্যা—যে স্কুলে পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেই পরীক্ষাকেন্দ্রই তখন জলের তলায়। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল মালদা জেলা প্রশাসন।
ভুতনির জলবন্দি এলাকার তিনটি হাইস্কুলে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই তিন স্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্র সরিয়ে মানিকচক কলেজে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। শুধু কেন্দ্র বদলেই থেমে থাকেনি প্রশাসন। ভুতনির দুর্গত এলাকা থেকে ৬৩৬ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করে মানিকচকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আজ ধাপে ধাপে নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের মানিকচকে নিয়ে আসা হয়। ভূতনি সেতুতে তাঁদের স্বাগত জানান অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাতা ও কলম। জানানো হয় পরীক্ষায় সাফল্যের আগাম শুভেচ্ছাও।
মানিকচকের তিনটি স্কুলে পরীক্ষার্থীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। অর্থাৎ বন্যার জল যতই তাঁদের স্কুল-ঘরকে গ্রাস করুক, পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে থমকে না যায়, সেই চেষ্টাই এখন প্রশাসনের। জলের সঙ্গে লড়াই করেও তাই পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতিতে ভুতনির পড়ুয়ারা।







